এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু খুব লম্বা হবে। তবুও সব বলা যাবে না।
যাই হোক, প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ক্রোধ টা আসলে কি। গুগল করলেই নানান ধরণের কথা পাবে। অনেকগুলো আবার এত জটিল যে সেগুলো বুঝতে হলে আরও ১০ টা পেজ খুলে খুলে পড়তে হবে আর শেষ পর্যন্ত পুরোটা না বুঝেই ‘পরে দেখবো’ বলে ছেড়ে দিতে হবে। না-না, হাসির কথা নয়। আমার অন্তত তাই মতামত। কিন্তু আমি সবসময় খুবই সরল করে বলার চেষ্টা করি। তাই বলি – ক্রোধ মানুষের অসন্তোষের এমন একটা অনুভূতি যা যতো বাড়তে থাকে ততই শরীর আর মনের সর্বনাশ করতে থাকে।
শাস্ত্রে বলে ষড়রিপুর মুখ্য একটা হচ্ছে ক্রোধ যা মানুষকে নরকের রাস্তায় নিয়ে যায়। বাকি পাঁচটা হলো – কাম , লোভ , মোহ , মদ আর মাৎসর্য।
গীতাতে শ্রীকৃষ্ণ বলে – ক্রোধ আধ্যাত্মিকতা আর মানসিক শান্তি কে নষ্ট করে দেয়।
বুদ্ধ বলে – মানব সমাজের সমস্ত দুঃখের কারণ ‘ত্রিবিষ’ এর মুখ্য একটা হল ক্রোধ। বাকি দুটো হল – লোভ আর অজ্ঞতা।
ঋষি পতঞ্জলি বলে – মানুষের জীবনের সমস্ত দুঃখের মূল পাঁচটা কারণের একটা হল ‘ক্রোধ’।
তাহলে বোঝ যে ক্রোধ কত ক্ষতিকারক জিনিষ যা মানুষ নিজের মধ্যে পুষে রাখে।
ক্রোধের প্রকাশ কিভাবে হয়?
সেটা তো বিভিন্ন ভাবে হতে পারে – তর্ক করা, চোখ রাঙ্গানো, চিৎকার করা, গালি দেওয়া, জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলা, লাথ-ঘুসি মারা, এমনকি খুন করে ফেলা পর্যন্ত এবং আরও অনেক কিছু। এগুলো কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে দেখাও যায়। এছাড়াও অনেক আছে যেগুলো দেখতে পাওয়া যায় না – যেমন –
রাগে চুপ হয়ে গুমরে থাকা,
উঠে অন্য কোথাও চলে যাওয়া,
টেড়া টেড়া অসহযোগের কথা বলা,
মনের মধ্যে প্রতিশোধের আগুন পুষে রাখা
এবং আরও অনেক কিছু।
তোমরা কিন্তু ক্রোধের সুক্ষ প্রকাশগুলোকে ঠিক মতো বুঝতে চাও না। ভাবো এটা কিছু না কিন্তু আসল অর্থে তোমার মধ্যে ক্রোধ ঘর করে ফেলেছে যেমন –
অফিসের জন্য লেট হয়ে গেছ ইতিপূর্বেই, হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে ছুটছো পরের বাস বা ট্রেনটা ধরার জন্যে। হাতে বা পিঠে মাঝারি ধরণের একটা ব্যাগও রয়েছে।
নাকের ওপর দিয়ে বাস বা ট্রেনটা বেরিয়ে গেল কিম্বা ব্যাগটা থাকার দরুন উঠতে পারলে না।
এখন যা তোমার মনের পরিস্থিতি হয়েছে তাই হল ‘ক্রোধ’। এই অনুভূতিকে একেবারেই প্রশ্রয় দিও না। দিলেই একটু একটু করে তোমার জীবনের সমস্ত কর্মকাণ্ডে ঢুকে পড়বে এই ক্রোধ আর তোমার মন এবং শরীর কে নষ্ট করতে থাকবে।
এটা তো খুব সাধারণ কথা। নিত্য নৈমিত্তিক ঘটে। তাহলে কিভাবে ঢুকে পড়বে – ক্রোধ – কর্মকাণ্ডে?
তাহলে একটা ছোট্ট গল্প শোনো। স্থান, কাল আর পাত্র – পরিবর্তিত।
বিকাশ একটা প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করতো। শহরতলিতে থাকতো। এক ছেলে – এক মেয়ে। মেয়েটা বড়। স্কুলে পড়ে। ছেলেকে এবারে ভর্তি করাবে। বিকাশের বউ কিছু করে না। হাউস ওয়াইফ। ঝগড়া ঝাটি ‘না’ এর মতো – পুরোপুরি সুখের সংসার বলতে পারো।
দিন যেতে যেতে একদিন এমন এল যে পরের দিন সব থেকে বড় বাবু মানে ‘বিগ বস’ হেড অফিস থেকে ব্রাঞ্চ অফিস মানে বিকাশের অফিস পরিদর্শন করতে আসবেন – বিকাশের একটা প্রমোশন হয়ে যাবে – এইরকম পূর্বাভাস বিকাশ পেয়েছিল।
তা, ভোরবেলা থেকে উৎসুক বিকাশ বউয়ের সাথে খুব ভালো ভালো কথা বলল, শালা, শশুর-শাশুড়ির খুব প্রশংসা করলো যদিও প্রত্যেক মুহূর্তে মনে মনে ভাবতে থাকলো – “প্রমোশনটা একবার হয়ে যাক, তারপর বলবো শালা বড় না আমি।“ *
বউ অনুগতা। খুব খুশি হয়েও ভাবতে থাকলো – এখনই এত ডমিনেট করে, প্রমোশনটা হয়ে গেলে কি হবে কে জানে! **
ছেলে-মেয়ের নানান বায়না রাতে আর সকালে বদলে বদলে হয়ে গেছিলো যা বিনা বাক্যব্যায়ে বিকাশ মেনেও নিয়েছিল।***
প্রতিবেশী এক মহিলাকে রাস্তা থেকে ডেকে চা খাইয়ে প্রমোশনের সম্ভাবনাকে একদম নিশ্চিত করে দিল বউ। ****
বউয়ের প্রতিটা প্রশংসা বাক্যের সাথে সাথে প্রায় সবগুলো দাঁত বার করে মাথা নেড়ে নেড়ে মৌন হাসি হেসে সায় দিতে থাকলো বিকাশ। অত উৎসাহ আর খুশির সাথে সাথে বউয়ের মনের ভেতরে কিন্তু ভয় যেন জমাট বাঁধছিল। ‘প্রমোশনটা হয়ে গেলে কি হবে কে জানে!’ যাইহোক, এই সবের জন্যে স্বাভাবিক ভাবে অফিস বেরোতে বিকাশের একটু দেরি হয়ে গেল। তাড়াহুড়োতে দরজার বাইরে এসে দু পা চলতেই তার মনে পড়ল মোবাইল ফোন আর চশমা দুটোই ভুলে এসেছে। বউ ততক্ষণে দরজা বন্দ করে রান্নাঘরে। দরজা পেটাতে পেটাতে বিকাশের ধৈর্য যেন কম হয়ে যাচ্ছিল।
আর দরজা খুলতেই –
“আরে! এক মিনিটে কোথায় চলে যাও?” জুতো না খুলেই বিকাশ টেবিলের কাছে গিয়ে দেখে মোবাইল আর চশমা নেই। চিন্তাশক্তিও যেন একটু কম হল। “কোথায় রেখেছ মোবাইল আর চশমা? দাও শিগগির।“
“আমি কোথায় রাখবো? সকালে তুমি নিয়েই আসনি নীচে। দাঁড়াও আনছি।“ তর তর করে দোতালায় গিয়ে মোবাইল, চশমা আনল বউ। “এখন থেকেই ভুলছ, প্রমোশন এর পর তো কাজের চাপ বাড়বে।“
“হ্যাঁ, তো তুমি আনতে পারতে না? একটুও দায়িত্ববোধ নেই। দাও, এখন। আজকেই লেট হয়ে গেল।“
“বাবা, এটাও আবার আমার দায়িত্ব নাকি?” বউয়ের কথা কানে না নিয়েই হন হন করে বেরিয়ে চলে গেল বিকাশ।
স্টেশনে নাকের ওপর দিয়ে ট্রেনটা বেরিয়ে গেল। তখুনি বউয়ের গলা ফোনে,” ট্রেন পেলে?”
“হ্যাঁ, অফিস পৌঁছে গেছি। রাখ এখন।“ ঝাঁঝিয়ে উঠে ফোন কেটে দিলো বিকাশ। “ট্রেন পেলে! যত সব আদিক্ষেতা!“ অস্থিরতা, গরগর আর পায়চারির মধ্যেই পরের ট্রেনটা এল। এটাতে সবসময় একটু বেশি ভিড় থাকে। গুঁতিয়ে উঠতে গিয়ে গেটে ঝোলা এক যুবকের কনুই লেগে বিকাশের চশমার একটা কাচ বেরিয়ে কোথায় তলিয়ে গেলো। তা, বিকাশ এবার মারমুখী। চল্লিশে পা দেবে এমন ভদ্রলোক যদি ২৫ বছরের যুবকের সাথে তাদেরই মত গালাগালিতে এসে পড়ে তাহলে মামলা একটু বেশি গড়বড় হয়েই যায়। বিকাশ ভেতরে না গিয়ে গেটের পাশেই বাকবিতণ্ডা শুরু করেছিল। পরের স্টেশনটা আসতেই ওই যুবক তার একজন বন্ধুর সাথে মিলে হ্যাঁচকা একটা টান দিয়ে বিকাশকে নাবিয়ে নিল ট্রেন থেকে।
“যা হবার হয়ে গেছে, ছেড়ে দাও ভাই এবার।“
কে বলল? না না, বিকাশ বলেনি। অন্যরা বলছিল। বিকাশের হয়ে নয় – সাধারণ যাত্রী হিসেবে। মুশকিল এটাই হয়েছিল যে এই ট্রেনে বিকাশের কোন পরিচিত যাত্রী ছিল না। তবুও বিকাশ যেন একাই একশো।
তা যাই হোক। আজ কালের ছেলেরা বোধহয় বিকাশের সময়ের ছেলেদের থেকে কিছুটা ভালো বলে মনে হল। বিকাশকে নাবিয়ে নিয়ে ওরা কোন কিছুই করল না। বলল, দিন চশমা, সারিয়ে দিচ্ছি।
“ঢের করেছ ভাই। এবার আমায় যেতে দাও। ওটা আমি নিজেই সারিয়ে নেবো।“
“বেশ, তাই ভালো, ওটা আপনি নিজেই ঠিক করান। পরের ট্রেন ধরে চলে যান। পরের ট্রেন সাত মিনিট পরে। এই সাত মিনিট হচ্ছে আপনার ওই অভদ্র ব্যাবহারের শাস্তি। চল্ রে। নাহলে এনার মতো আমরাও লেট হয়ে যাবো।“
ছেলে দুটো চলে যাবার পর বিকাশের হোশ এল যে অফিসে একটা কল করা দরকার ছিল যা রাগের মাথায় হয়ে ওঠেনি। ফোনটা তাড়াতাড়ি বার করে দেখে ব্যাটারি ২% মাত্র। রাতেই ব্যাটারি শেষের দিকে ছিল। রোজের মতো সকালে যে চার্জ করা হয়নি।
“হ্যালো, আমি বিকাশ। আজ একটু – “ ফোনটা মরে গেলো।
গল্পটা ছোট করে আনতে হবে।
তারপর অনেক বছর কেটে গেছে।
তবে আজও কিছু লোক বিকাশকে দেখিয়ে অন্য নতুনদের বলে – এই সেই বিকাশ।
“আচ্ছা, প্রমোশন না হওয়ার জন্যে যে বউকে পিটিয়েছিল?”
“হ্যাঁ, সেইই। বউটা খুব কম্প্রোমাইজ করেছে জীবনে। একই ছাদের তলায় থাকে তবে প্রায় আলাদা আলাদা।“
“ছেলে মেয়েদের ওপর খুব খারাপ প্রভাব পড়ে, তাই না?”
“হ্যাঁ, তা তো বটেই। মেয়েটা আই টি ফিল্ডে চাকরি নিয়ে আলাদা কোথাও থাকে। ছেলেটা খুব বদরাগী। যখন তখন স্কুলে ছেলদের সাথে ঝগড়া করে – হাতাপাইও। দুবার ওয়ার্নিং পেয়েছে। পাড়ার ছেলেরা প্রায়ই এড়িয়ে চলে। ভাগ্য – বুঝলে? সবই ভাগ্য।“
গল্পটা শেষ হোল বটে কিন্তু তোমাদের প্রশ্নের উত্তর কিন্তু শেষ হয়নি।
ভাগ্য মোটেও নয়। আমি ভাগ্য মানি না। এটা কর্মফল।
* প্রমোশন হলে বউয়ের দাদা কে দেখিয়ে দেবার মনোভাব – লোভ এবং অহংকার (মদ)।
** এখনডমিনেটকরে, পরে কি হবে? – ঈর্ষা (মাৎসর্য)।
হ্যাঁ, নিজের ভাই, বোন, মা, বাবা, স্বামী, স্ত্রীর প্রতিও ঈর্ষা হয় মানুষের। আমি রোজ দেখি।
*** বায়না মেনে নেওয়া – মোহ। (সবসময় নিকটজনদের কিছু পাইয়ে দেওয়ার ইচ্ছে)
**** বাড়ি ডেকে চা খাইয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে স্বামীর প্রমোশনের নিছক সম্ভাবনাকে নিশ্চিত করে শোনানো – ঈর্ষা, লোভ এবং অহংকার।
তাহলে আমরা দেখতে পেলাম যে ষড় রিপুর মধ্যে মুখ্যত – ঈর্ষা, মোহ, লোভ, অহংকার – এই চারটি রিপুই ‘ক্রোধ’ কে জন্ম দেয়। অন্যভাবে বললে ‘ক্রোধ’ হচ্ছে এই চার রিপুর সমন্বয়। তাই এই রিপু সব থেকে ভয়ংকর।
হ্যাঁ, একটা কথা আমি এর আগের ব্লগে বলেছি যে স্ট্রেস হলেই ক্রোধ হবে। তা সেটা এখন একবার মিলিয়ে নেওয়া যাক।
কারোর কোন কিছু দেখলে যা তোমার নেই, তোমার মনে ঈর্ষা হবে। সেটা পাওয়ার ইচ্ছে তোমার মনে জাগবে। সেই ইচ্ছেটা মোহ। লাগাতার ইচ্ছে হতে হতে সেটা লোভে পরিণত হয়ে যাবে।
এই পাওয়ার ইচ্ছে বা লোভের পর দুটো স্থিতি আসে –
১) পেয়ে গেলে মনে হবে – আমার ও আছে, দুনিয়াতে তুই একা নোস। আমিও আছি। – অহংকার। আবার সেটা হারিয়ে ফেলার ভয়ও জাগবে।
২) আবার দীর্ঘ সময় ধরে ইচ্ছে করেও যদি কেউ না পায় তাহলেও এক ধরণের অনুভূতি জাগে – আরে যা ভাই, এইরকম অনেক দেখেছি। আমি তোয়াক্কা করি না। এসব আমার কাছে খুবই তুচ্ছ। – হীনমন্যতা থেকে জন্মানো অহংকার।
আর এই দুটো থেকেই বাড়তে থাকে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। ক্ষোভ, দুঃখ আর রাগ।
ক্রমশ ক্রোধ বাড়তে থাকে আর একসময় সেটার বিস্ফোরণ হয়।
অনেকে তো খুনও করে ফেলে। জ্যোতিষ বলবে – মঙ্গল-শনি ভারী, রক্ত প্রবাল আর নীলা পরিয়ে দাও। আরে বাবা, নিজেই কন্ট্রোল করার চেষ্টা করলে না, তা দোষ মঙ্গল-শনিকে কেন দিচ্ছ? আমার দীর্ঘ বছরের জ্যোতিষের অভিজ্ঞতাতে প্রবাল পরে কারোর ক্রোধ কম হয়েছে এমনটা কক্ষনো দেখিনি। তার ওপর, গ্রহ যে ঘরেই থাকুক, যে লগ্নই হোক, যে রাশিই হোক – নীলা আর প্রবাল কখনও একসাথে পরা চলে না। তাতে কষ্ট বাড়ে।
যাই হোক এটা একটা আলাদা দিক। সম্বন্ধ যদিও রয়েছে কিন্তু এখনকার আলোচ্য বিষয় এটা নয়।
তাহলে ক্রোধ কি করে কমবে?
হ্যাঁ, সেটাই হচ্ছে আলোচ্য বিষয়।
স্বামী বিবেকানন্দকে দিয়ে শুরু করা যাক –
ক্রোধের ব্যাপারে স্বামী বিবেকানন্দ বলেন – মনকে বশে আনতে পারলে ক্রোধ আপনা থেকে বশে আসবে।
বাহ্ বাহ্! সেটা তো সবাই জানে। কিন্তু বশে আনবে কিভাবে? সবাই তো আর বিবেকানন্দ হতে পারে না।
হয়তো বা পারে – নিশ্চয়ই পারে, হয়তো বা নয়। কিন্তু বিবেকানন্দ নিজেই চাইতেন আমরা সবাই যেন তাঁর মতো হই। তাঁর কথা মেনে। মানে সমগ্র মানবজাতিই যেন তাঁর মতো হয়। সত্যিকারের কোন গুরু কি চায় না যে শিষ্য তার মতো বা তার থেকেও বেশি বড় হোক?
যাইহোক, ক্রোধ কে কম করতে হলে – আমি তো বলি – একেবারে শূন্য করতে হলে সর্বপ্রথম যেটা দরকার সেটা হচ্ছে তোমার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। সেটা হোল এই যে – যা কিছুই ঘটুক না কেন আমার সাথে, আমার আশে পাশে, আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে – রাজনৈতিক, সামাজিক বা অন্যকিছু, আমি কোন মতেই রাগ করবো না। গালি দিলেও না আর মারলেও না।
ভাবো, বিশ্লেষণ কর, উপায় খোঁজ, সবকিছু করো – কিন্তু রাগ একেবারেই নয়।
আর তার পরেই শুরু হবে তোমার ক্রোধ বিসর্জন দেওয়ার সাধনা।
১) অল্প কথা বলাঃ-
যদি তুমি প্রতিদিন বেশি তেল আর বেশি মশালা মাংস বানানোর জন্যে বা অন্য কোন তারকারির জন্যে ব্যাবহার কর তাহলে খেতে খুব ভালো লাগবে, খুবই স্বাদের হবে কিন্তু দীর্ঘ দিন পরে সুনিশ্চিত ভাবে তোমার মধ্যে বিভিন্ন রোগ দেখা দেবে – কিছু হয়তো সারিয়ে নেবে কিন্তু কিছু সারা জীবন সাথে থাকবে যদি ওই স্বাদটা নিতে থাক।
ঠিক সেইরকম – যদি তুমি অনেক কথা বলে নিজের জিভ কে অনেক খোরাক দাও তাহলে তোমার মনে খুব ভালো লাগবে – আমি কতো বলতে পারি! কিন্তু অভ্যেসে পরিণত হওয়ার পরে লোকে তোমায় বাচাল বলবে এবং অত্যধিক তেল থেকে যেমন পেট খারাপ হয়ে যায় তেমনি অত্যধিক কথা বলাতে তোমার মাথা খারাপ হয়ে যাবে, খেই হারিয়ে ফেলবে আর তোমার কোন কথার দাম থাকবে না।
অত্যধিক কথা বলা ক্রোধের অন্যতম কারণ।
একজন খুব ভালো উকিল বা নেতা কোর্টে কিম্বা জনতার সামনে অনেক কথা বলে – অনেক মিথ্যাও হয়তো বলে কিন্তু তোমরা লক্ষ করে দেখবে যে ওই উকিল বা নেতা অন্য সময় খুবই গম্ভীর হয়ে থাকে আর অত্যন্ত অল্প কথা বলে।
তাহলে আজ থেকেই যতটা পারো মৌন থাকার চেষ্টা কর। তার পরে করবে মনন -চিন্তন-মেডিটেশন।
আমি তো মেডিটেশন করি, তবুও আমার খুব রাগ। কেন?
এর উত্তর তো খুবই সোজা। মেডিটেশন বা ধ্যান শুরু করার আগে নিজেকে পুরোপুরি তৈরি করতে হবে। তবেই মেডিটেশন থেকে লাভ পাবে। তা নাহলে রাগ তো আরও বেড়েও যেতে পারে। নিজেকে কিভাবে তৈরি করবে তা ঋষি পতঞ্জলির যোগসূত্রে সবকিছু রয়েছে। পারলে নিশ্চয়ই পড়বে।
জল কেটে সাঁতার তুমি শিখলে না – কেউ যদি তোমায় মাঝ পুকুরে/নদীতে ছেড়ে দেয় তাহলে কি হবে?
লোহার টুকরো থেকে অন্য কিছু বানাতে গেলে টুকরোটাকে হয় ফার্নেসে গলাতে হবে নাহলে আগুনে লাল করে পেটাতে হবে।
আজ এই পর্যন্ত।
এর পরের ব্লগে আমি তোমাদের ঋষি পতঞ্জলির যোগসূত্র সংক্ষেপে বোঝাবো আর তা থেকে খুব সহজে ক্রোধ কি করে সংবরণ করা যায় বা একেবারে শূন্য করা যায় তা বলবো।
ব্যাক্তিগত ভাবে যদি কেউ ‘অষ্টাঙ্গযোগ মেডিটেশন’ কিম্বা ‘মন্ত্র মেডিটেশন’ শেখার জন্যে আমার সাথে যোগাযোগ করতে চাও তাহলে ৯৮৬৭৭৩৪৬৮৫ তে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠাও।
ভালো থাকো, সুস্থ থাকো।
সব শুভ হোক।

Khub bhalo laglo, kintu mene chola ta khub khothin, sobai parbe na.