ধ্যান কিভাবে আধ্যাত্মিকতার সাথে সম্পর্কিত?
নিয়মিত ‘ধ্যান’ ছাড়া আধ্যাত্মিকতা অর্জনের আর অন্য কোনো উপায় নেই।

তুমি যদি ধ্যান এবং আধ্যাত্মিকতার মধ্যে সম্পর্ক জানতে চাও তবে তোমাকে প্রথমে আধ্যাত্মিকতা কী তা বুঝতে হবে।

আধ্যাত্মিকতা কি?

অনলাইন এবং অফলাইনে ‘আধ্যাত্মিকতা’ বা ‘আধ্যাত্মবাদ’-এর অসংখ্য সংজ্ঞা রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ বিশ্বাস করে যে আধ্যাত্মিকতা যে কোনো ধর্মে ঈশ্বর - সর্বশক্তিমান বা ঐশ্বরিক কিছুর সাথে সম্পর্কিত। কেউ কেউ আবার বলে যে এটা এমন এক বিশ্বাস ব্যবস্থা যেখানে কোন ঈশ্বর বা কোন ধর্ম নেই কিন্তু যেটা নিজের অন্তরকে শুদ্ধ করার অনুশীলন মাত্র। এছাড়া আরও কিছু লোক আছে যারা বিশ্বাস করে যে আধ্যাত্মিকতা আমাদের সমস্ত কুসংস্কার এবং পক্ষপাতের বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করার একটা উপায়। এই ধারণাগুলো যদি বিবেচনা কর তাহলে এটা স্পষ্ট বুঝতে পারবে যে ‘আধ্যাত্মিকতা’র একটা ব্যতিক্রমহীন সংজ্ঞা দেওয়া মোটেই সম্ভব নয়।

কিন্তু আমি খুব সরল ভাষাতে বলি যে সংজ্ঞা যা-ই বা থাকুক না কেন, আধ্যাত্মিকতা হল মনের শুদ্ধতা আনার এক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রাথমিক বিষয়। এটা আসলে সুস্থ মন এবং সুস্থ দেহের সাথে নিজেকে বিশুদ্ধ রাখতে বিশেষ কিছু মানসিক ধারণা এবং ক্রিয়াকলাপের সাথে আমাদের জীবন যাপনের একটা পথ। তুমি  যদি খুব সুখী, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ জীবন পেতে চাও, যা আসলে এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষেরই ইচ্ছা, তাহলে তোমাকে অবশ্যই আধ্যাত্মিকতা অর্জন করতে হবে।

কে না চায়? কিন্তু কিভাবে?

হ্যাঁ, তাই বলছি।

প্রথমে আধ্যাত্মিকতাকে দুই ভাগে ভাগ করা যাক – ধর্মীয় (ধর্ম যুক্ত) আধ্যাত্মিকতা এবং অ-ধর্মীয় (ধর্ম ছাড়া) আধ্যাত্মিকতা।

ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতা কি?

তোমরা যেমন অনেকেই বিশ্বাস কর যে দেব-দেবী, মসজিদ, গির্জা এবং আচার-অনুষ্ঠানই আধ্যাত্মিকতা লাভের উপায় – এই ধারণাটি হল ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার ধারণা।

এটা বিভিন্ন লোকের নিজেদের ধর্মের উপর ভিত্তি করা এক বিশ্বাস ব্যবস্থা। নিজের আত্মাকে জানতে বা তারও ওপরে ব্রহ্মজ্ঞান পেতে মানুষ তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। মজার কথা হল যে এই একই উদ্দেশ্যে অর্থাৎ আত্মা এবং ব্রহ্মকে জানার জন্যে তারা তাদের নিজেদের ধর্ম অনুসারে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ধরণের প্রার্থনা করে।

উদাহরণস্বরূপ, হিন্দুরা সময়ে সময়ে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করে এবং ওই সমস্ত দেব-দেবীর নামে মন্ত্র জপ করে। তারা মন্দিরে যায় এবং ধ্যানের জন্যও মূর্তি বা প্রতিমা পূজায় বিশ্বাস করে।

ইসলাম ধর্মাবলম্বী লোকেরা মসজিদে যায় এবং আল্লাহ’র নামে প্রার্থনা করে এবং কুরআনে নির্দেশিত আচার-অনুষ্ঠান করে।

খ্রিস্টধর্মের লোকেরা বাইবেলের নির্দেশ অনুসরণ করে গির্জায় যায় এবং প্রার্থনা করে।

একইভাবে, অন্যান্য ধর্মের লোকেরা তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় শাস্ত্র অনুসারে আচার-অনুষ্ঠান পালন করে।

সুতরাং, এখন তুমি খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছ যে আধ্যাত্মিকতা অর্জনের জন্য তুমি যদি তোমার ধর্মগ্রন্থগুলিতে লেখা অসংখ্য নির্দেশাবলী অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নাও তবে তুমি ‘ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতা’র মধ্য দিয়ে যাচ্ছ এবং সম্ভবত এটা প্রকৃতপক্ষে অর্জন করার পর তুমি নিজেকে "ধর্মীয়ভাবে আধ্যাত্মিক" বলতে সক্ষম হবে।

-ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতা কি?

এটা বোঝা খুবই সহজ। "অ-ধর্মীয়" শব্দটাই স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে যে এই বিশ্বাস ব্যবস্থা কোন নির্দিষ্ট ধর্ম, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত নয়। তুমি কোনও ধর্মকে বিশ্বাস না করেই আধ্যাত্মিকতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। কিন্তু অবশ্যই, তোমার চারপাশের মহাবিশ্বের শক্তি থেকে আসা কোন একটি বিশেষ শক্তি বা এমন কিছুতে বিশ্বাস তোমাকে করতে হবে।

এখন, তুমি  নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তুমি  কীভাবে যেতে চাও।

আচ্ছা, তাহলে কোনটা ভালো - ধর্মীয় না অ-ধর্মীয়?

এটা সম্পূর্ণভাবে তোমার নিজের ওপরেই নির্ভর করে যে তুমি  কিভাবে যেতে চাও। তবে আমাকে যদি পরামর্শ দিতে হয় তাহলে এটাই বলবো  যে তুমি তোমার নিজের বিশ্বাসকে শুধুমাত্র একটি জিনিসের ওপর কেন্দ্রীভূত করো আর অন্যের বিশ্বাসের সমালোচনা কক্ষনও করো না।

আমার নিজের কথা যদি বলতে হয় তাহলে বলবো যে আমি দ্বিতীয়টিই   (-ধর্মীয়)পছন্দ করি কারণ আমি বুঝেছি যে শান্তিপূর্ণ এবং সুখী জীবনের মূল উৎস এই অতি সরল এবং অতি মূল্যবান  আধ্যাত্মিকতা’কে পেতে হলে অনেক আচার-অনুষ্ঠান, অনেক দেব-দেবীকে অনুসরণ করার  পথ সঠিক নয় অথবা অত্যন্ত কঠিন। আসলে, আমি বহু বছর ধরে অ-ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতাই অনুশীলন করে আসছি।

তাহলে ধ্যান কিভাবে আধ্যাত্মিকতার সাথে সম্পর্কিত?

হ্যাঁ, বলছি। ধর্মীয় বা অ-ধর্মীয় যা-ই হোক না কেন আধ্যাত্মিকতা অর্জনের জন্য তোমাকে অবশ্যই ধ্যানের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত ধ্যান’ ছাড়া আধ্যাত্মিকতা অর্জনের আর অন্য কোনো উপায় নেই। আমি আমার পরবর্তী ‘ব্লগ’-এ তোমাদের বলবো ‘ধ্যান’(ইংরেজিতে মেডিটেশন) কি, এর উপকারিতা কি এবং মনকে নিয়ন্ত্রণ  করে চিন্তামুক্ত জীবন পেতে কিভাবে অতি সহজ উপায়ে এটা করা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত  শান্ত হয়ে সম্পূর্ণ মনোযোগ এবং নিষ্ঠার সাথে সৎকর্ম করে যাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *